দুই কোটি টাকার গাড়ি না কিনে কৃষকদের টাকা দিলেন অভিনেতা, কেন?
বলিউডে নানা পাটেকারের রাগী স্বভাবের গল্প কম শোনা যায় না। তবে পর্দার বাইরের এই অভিনেতার মানবিক একটি দিকও রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। একবার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নানা। কিন্তু কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে বদলে ফেলেন সিদ্ধান্ত।
গাড়ি না কিনে সেই অর্থই বিলিয়ে দেন অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে।
সম্প্রতি নানা পাটেকারকে নিয়ে এমনই একটি ঘটনা জানিয়েছেন চিত্রনাট্যকার রণবীর পুষ্প। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি।
রণবীরের দাবি, নানা পাটেকারকে নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়। অভিনেতা নাকি প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতি করেন, এমন অভিযোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নানার মানবিকতার একটি ঘটনা তুলে ধরেন রণবীর।
তিনি জানান, একবার কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন নানা। সে সময় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন অভিনেতা। কিন্তু পরিবারগুলোর পরিস্থিতির কথা জানার পর গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি।
এরপর সেই দেড় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নানা। রণবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দেন অভিনেতা।
রণবীর বলেন, যে মানুষ কৃষকদের চোখের জল মোছানোর চেষ্টা করেন, তিনি কারও ক্ষতি করতে পারেন না। কৃষকদের সহায়তার জন্য নানা ‘নাম’ নামে একটি সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। ওই সংস্থার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে নানার রাগী স্বভাবের বিষয়টিও অস্বীকার করেননি রণবীর। তার দাবি, নানার রাগের পেছনেও অনেক সময় কারণ থাকে। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথাও জানান তিনি।
রণবীরের ভাষ্য, একদিন চলন্ত গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতল রাস্তায় ছুড়ে ফেলছিলেন। বিষয়টি দেখে নানা গাড়ি থামিয়ে নিজেই বোতলটি তুলে নেন। পরে ট্রাফিক সিগন্যালে ওই গাড়িটি থামিয়ে চালককে জানালা খুলতে বলেন।
সামনে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বার্তা থাকা একটি বিজ্ঞাপনের দিকে ইঙ্গিত করে নানা ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, দেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কার? তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ব্যবহৃত আবর্জনা রাস্তায় না ফেলার দায়িত্ব প্রত্যেকেরই রয়েছে।
রণবীরের মতে, ঘটনাটিকে নানার রাগ বলা যায় ঠিকই, তবে একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে সচেতন করার চেষ্টাও ছিল এতে।
এদিকে, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে নানার সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। সেই সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। এ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রণবীর।
তার দাবি, নানা ও মনীষার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেটি বন্ধুত্ব নাকি প্রেম তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে দুজন একে অপরকে বুঝতেন এবং শুটিংয়ের আগে নিজেদের দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করতেন বলে জানান তিনি।
নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালা একসঙ্গে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অগ্নিসাক্ষী’ ও ‘যুগপুরুষ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাদের জুটি নিয়ে সেই সময়েও দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
এলআইএ