৯ সেপ্টেম্বর হাজিরের চিঠি অভিযোগকারী পেলেন ১৫ সেপ্টেম্বর

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এর ছয় দিন পর, ৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি সশরীরে হাজির ...

চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।

এর ছয় দিন পর, ৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার জন্য অভিযোগকারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়। চিঠিতে ৯ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা বলা হলেও অভিযোগকারী ‘এস আর এস সিন্ডিকেট সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড’ চিঠিটি পায় ১৫ সেপ্টেম্বর।

বন্দর তদন্ত কমিটির দেওয়া ওই চিঠিতে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিকের মোবাইল নম্বরও ভুল দেওয়া হয়েছে। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটি করেছে।

এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আর এস সিন্ডিকেট সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ৩০ আগস্ট এফসিএল কনটেইনারটি খালাস নেওয়ার জন্য বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে যাই। কিন্তু ওইদিন কনটেইনারটি না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কনটেইনারটি খুঁজে দেখার পরামর্শ দেয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর আমরা লিখিত অভিযোগ দিই।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে কনটেইনারটি নিয়ে বন্দরে দৌড়ঝাঁপ করছিলাম। কিন্তু বিষয়টি সুরাহা হচ্ছিল না। পরে ৭ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজসহ গণমাধ্যমে কনটেইনার গায়েবের খবর প্রকাশের পর বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি তড়িঘড়ি করে ৯ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির হওয়ার সময় দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি দেয়। চিঠিটি আমরা পাই ১৫ সেপ্টেম্বর।’

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘চিঠিতে দেখা যায়, আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের শেষ দুই ডিজিট ৯৫-এর স্থলে ৫৯ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সব ম্যানুয়ালে আমাদের সিঅ্যান্ডএজেন্টের ই-মেইল ঠিকানা আছে। চিঠির বিষয়টি আমাদের ই-মেইলে জানালে আমরা নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতাম। এখানে মনে হচ্ছে, পুরো ঘটনাটি বন্দর জেনেশুনে চাতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে।’

এ ব্যাপারে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের হোয়াটসঅ্যাপে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অবগত করে বক্তব্য চাওয়া হয়। পরে মোবাইলে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান চাইলে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

এদিকে, ৭ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজে খবর প্রকাশের পর জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যভর্তি কনটেইনার চুরির ঘটনা উল্লেখ করে ৮ সেপ্টেম্বর বন্দর থানায় মামলা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মামলায় ‘প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দুই জেটি সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বিরুলিয়া ছোট কালিয়াকৈর এলাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড কাপড়ভর্তি কনটেইনারটি আমদানি করে। গত ৩০ আগস্ট ‘এসআরএস এসওয়াইএনডি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড’ নামের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান কনটেইনারটি খালাসের জন্য অনুমতি নেয়। পরে সিসিটি ইয়ার্ডে অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কাছে গেলে দেখা যায়, কনটেইনারটি সেখানে নেই।

সাইফ পাওয়ারটেক জানায়, গত ১১ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারির জন্য সিস্টেমে তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে কনটেইনারটি গাড়িতে তোলার আগে কাগজপত্রে সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. এস্কান্দর ফারুকের যে সই দেওয়া হয়েছে, তা ছিল ভুয়া।

পরবর্তীতে সিস্টেম চেক করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী নেয়ামূল হক সরকারের আইডি নম্বর ১৪৫৩২ ব্যবহার করে গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় কনটেইনারটি সম্পর্কে সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া হয়।

এমডিআইএইচ/এমএএইচ/

Original Source
https://www.jagonews24.com/economy/news/1158000
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Crime