রুমিন ফারহানার সমর্থকদের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও বহিষ্কৃত সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান উপজেলা মিলনায়তন বরাদ্দের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রুমিন ফারহানার।
আজ দুপুরে মিলনায়তন বরাদ্দসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জনতে উপজেলা পরিষদে যান আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। এসময় আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে ইউএনও কার্যালয়ে বসে থাকতে দেখে তারা আর ভেতরে ঢোকেননি।
পরে সেখান থেকে নিচে নেমে নিজেরা কথা বলার সময় বিএনপির কয়েকজন সমর্থক অতর্কিত হামলা চালান। তবে উপজেলা পরিষদে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে দুই দিকে ফিরিয়ে দেন।
আহত রাসেল বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান নিজে এসে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তিনি (রুমিন ফারহানা) সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বলেন, লোকজনের মাধ্যমে ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর
