পাহাড়, সমুদ্র আর মেঘলা চিতার উপাখ্যান: ইনানীর বনে প্রাণের স্পন্দন

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
​মো. সাব্বির হোসাইন ​একদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগরের গর্জন, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ের স্তব্ধতা এই দুইয়ের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যান কেবল পর্যটকদের চোখ জুড়ানোর জায়গা নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের এক গোপন প্রসূতিঘর। সম্প্রতি এই বনাঞ্চল নিয়ে হওয়া এক গবেষ...

​মো. সাব্বির হোসাইন

​একদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগরের গর্জন, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ের স্তব্ধতা এই দুইয়ের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যান কেবল পর্যটকদের চোখ জুড়ানোর জায়গা নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের এক গোপন প্রসূতিঘর। সম্প্রতি এই বনাঞ্চল নিয়ে হওয়া এক গবেষণা যেন প্রকৃতির এক গোপন সিন্দুকের চাবি খুলে দিয়েছে।

গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাসের অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে ইনানীর বনের এক নতুন রূপ। ক্যামেরা ট্র্যাপের নিরব নজরদারি, লাইন ট্রানসেক্ট পদ্ধতি এবং বনের গহীনে পড়ে থাকা পরোক্ষ চিহ্নের সূত্র ধরে পাওয়া গেছে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর পদচিহ্ন। আর এই তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম মেঘলা চিতা এবং উল্লুক। বিশ্বজুড়ে চরম সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত এই দুই প্রজাতির উপস্থিতি প্রমাণ করে, মানুষের অসচেতনতার মাঝেই ইনানী এখনো ধরে রেখেছে তার বুনো প্রাণ।

তবে এই অর্জন আনন্দের হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর উদ্বেগের ছায়া। গবেষণায় কেবল প্রাণীদের সংখ্যাই উঠে আসেনি, উঠে এসেছে গাছপালা এবং বনের ওপর মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের চিত্রও। দিন দিন মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে বনের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, ছোট হয়ে আসছে বন্যপ্রাণীর বিচরণের জায়গা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। তার মতে, আমাদের বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে এখনো রয়ে গেছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, জনবল সংকট এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়তই ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তের বন্যপ্রাণী।

​ইনানী জাতীয় উদ্যান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি এখনো হারিয়ে যায়নি; কিন্তু তাকে রক্ষা করার সময় এখনই। পাহাড়ি বন আর বিরল বন্যপ্রাণীদের এই মেলবন্ধন যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, তবে ভবিষ্যতের কাছে কেবল ইতিহাসই জমা থাকবে, কোনো জীবন্ত বন নয়। উপকূলীয় এই সবুজ দেয়াল আর তার অধিবাসীদের বাঁচাতে অবিলম্বে প্রয়োজন সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সংরক্ষণ নীতি।

লেখক: শিক্ষার্থী ,তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী

কেএসকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/travel/article/1157929
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Travel