পুরোনো মেকআপ ফেলে না দিয়ে যেভাবে কাজে লাগাবেন
মেকআপ কিনে বাড়ি ফেরার পর দেখা গেল ফাউন্ডেশনের শেড ত্বকের সঙ্গে ঠিক মিলছে না। কিংবা পছন্দের আইশ্যাডো, লিপস্টিক বা অন্য কোনো প্রসাধনী শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি অনেকেরই আছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, এত টাকা দিয়ে কেনা প্রসাধনী বুঝি ফেলেই দিতে হবে। কিন্তু সব সময় তা নয়। মেয়াদ থাকা অবস্থায় একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ভুল শেডের প্রসাধনও অন্যভাবে কাজে লাগানো যায়।
ভুল শেডের ফাউন্ডেশনের সমাধান
ফাউন্ডেশনের শেড ত্বকের সঙ্গে না মিললে আগে বুঝে নিন সেটি আপনার ত্বকের তুলনায় হালকা, নাকি গাঢ়। শেড যদি কিছুটা হালকা হয়, তাহলে সেটিকে মুখের উজ্জ্বল অংশে কনসিলারের মতো ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখের নিচে বা নাকের আশপাশের নির্দিষ্ট জায়গায় অল্প করে লাগিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হবে সফট হাইলাইটেড লুক।
আর ফাউন্ডেশনটি যদি গাঢ় হয়, তাহলে মুখের নির্দিষ্ট অংশে অল্প পরিমাণ ব্যবহার করে ক্রিম কনট্যুরের মতো কাজে লাগানো যায়। তবে রং যেন খুব বেশি গাঢ় না হয় এবং অবশ্যই আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
শিমারি আইশ্যাডো দিয়ে তৈরি করতে পারেন গ্লোয়িং লুক
আইশ্যাডো প্যালেটের নানা ব্যবহার
একটি আইশ্যাডো প্যালেট পুরোপুরি শেষ করা অনেক সময় কঠিন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্যালেটের বিভিন্ন শেড অন্য মেকআপ লুকেও ব্যবহার করা যায়।
ম্যাট ব্রাউন শেড হালকা হাতে ব্রোঞ্জারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শিমারি শেড ব্যবহার করা যেতে পারে চোখের কোণে বা গালের হাইলাইটার হিসেবে। আবার কালো কিংবা ডার্ক ব্রাউন শেড দিয়ে তৈরি করা যায় সফট স্মোকি আই লুক।
ভেঙে যাওয়া আইশ্যাডোও ফেলে দেওয়ার আগে ভাবুন। সেটি প্যালেটের খালি অংশে পরিষ্কারভাবে সংরক্ষণ করে আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুকিয়ে যাওয়া মাশকারার ব্যবহার
মাশকারা খোলার পর তুলনামূলক দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। সাধারণত মোড়ক খোলার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই মাশকারা শুকিয়ে যেতে শুরু করে। মাশকারার তারল্য ফিরিয়ে আনতে পাত্রে কিছুক্ষণ গরম পানি নিয়ে তাতে মাশকারার টিউবটি ডুবিয়ে রাখুন। এতে মাশকারা পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হবে। তবে মাশকারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চোখ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং মেকআপ বা চুল বাঁধার পর হঠাৎ দু-একটি পাকা চুল দেখা দিলে হেয়ার ডাইয়ের বিকল্প হিসেবে মাশকারা বুলিয়ে নিতে পারেন।
লিপস্টিক দিয়ে নতুন শেড
লিপস্টিক ভেঙে গেলে বা শেষের দিকে এসে অব্যবহৃত অংশ পড়ে থাকলে, মেয়াদ থাকলে সেটি ফেলে না দিয়ে অন্যভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। লাল, পিচ বা কোরাল শেডের লিপস্টিক অল্প করে গালে ব্যবহার করে ক্রিম ব্লাশের মতো লুক তৈরি করতে পারেন। আবার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু শেড কালার কারেক্টর মানে ত্বকের অসমান রং, দাগ ও কালচে ভাব দূর করতে ব্যবহার করা যায়। লিপস্টিকের কোনো শেড পছন্দ না হলে, মেয়াদ থাকা অবস্থায় দুই বা ততোধিক শেড মিশিয়ে নতুন রং তৈরি করতে পারেন।
আবার লিকুইড লিপস্টিক শুকিয়ে এলে গরম পানিতে ডুবিয়ে তারল্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এটি দিয়ে নেইলপলিশের কাজেও ব্যবহার করতে পারেন।
অন্যদিকে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া পেনসিল আইলাইনার অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন স্কেচিং বা ড্রয়িংয়ের কাজে। আর মেয়াদোত্তীর্ণ লিকুইড আইলাইনার কাজ করবে নেইল আর্ট বা নেইল পেইন্ট হিসেবে।
খালি প্যাকেট বা সুন্দর কনটেইনার
প্রসাধনীর খালি প্যাকেট বা সুন্দর কনটেইনার পরিষ্কার করে ছোটখাটো জিনিস রাখার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। হেয়ার পিন, ক্লিপ, ছোট গয়না বা অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ রাখার জন্য এগুলো বেশ কাজে দেয়।
পুনর্ব্যবহার মানে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় উৎপাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখে কিনুন। খোলার পর কতদিন ব্যবহারযোগ্য, সেটিও খেয়াল রাখুন। সামান্য সতর্কতা যেমন টাকা বাঁচাতে পারে, তেমনি ত্বক ও চোখকেও রাখতে পারে নিরাপদ।
সূত্র: গ্ল্যামারস, বি বিউটিফুল, ভোগ,ওয়েটসনস
এসএকেওয়াই



